সবুজদিন রিপোর্ট।।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কের খালের ওপর নির্মিত স্টিল ব্রিজ ভেঙে আলুবোঝাই ট্রাক খালে পড়ে যায়। এতে ১০ রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার ভোররাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা ও মিরুখালি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী খালের ওপর দেবীপুর মাদ্রাসাসংলগ্ন নির্মিত বেইলি ব্রিজে আলুবোঝাই ট্রাকটি ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ধসে পড়ে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ভোর রাত থেকেই পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-বরিশাল-খুলনা-ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসা-যাওয়া প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার-হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিন জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে আলুবোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় সেটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার সরু পথ তুষখালী লঞ্চ লঞ্চঘাট-তেলিখালি-ইকরি ঘুরে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব মিয়া বলেন, বেইলি ব্রিজটি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন পরিবহণ, লোকার বাস, অ্যাম্বুলেন্স, শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপ, ছোট যানবাহন এবং অসংখ্য পথচারী এটি ব্যবহার করেন। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কোনো ধরনের মালামালও পরিবহণ করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ ৬ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-বরিশাল রুটের লোকাল বাসের চালক মো. সোহাগ খান বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। ৬ কিলোমিটার সরু পথ ঘুরে আমাদের গন্তব্যে যেতে হয়। এতে সময় এবং জ্বালানি বেশি অপচয় হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
পিরোজপুরের সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, মঠবাড়িয়ার আওতায় অবস্থিত মহাসড়কে যে বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ার খবর পেয়েছি, সেটির ধারণ ক্ষমতা ২০ টন। অতিরিক্ত লোডের কারণে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। ব্যস্ততম ব্রিজটি দ্রুত সময়ের ভেতরে প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, দেশের বিভিন্ন রুটের যোগাযোগের মাধ্যম মহাসড়কের বেইলি ব্রিজটির ধারণক্ষমতা ২০ মেট্রিক টন। কিন্তু আলুবোঝাই ট্রাকের লোড অনেক বেশি থাকায় ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলার রোডস অ্যান্ড হাইওয়েকে অবগত করেছি। দ্রুত ভোগান্তি লাঘবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 





















