০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্লান্তি দূর করে যেসব পানীয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৯ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

শরীরকে দ্রুত চাঙা ও ক্লান্তি দূর করতে ডাবের পানি, লেবু-মধুর পানি, ডালিমের জুস, গ্রিন কিংবা হারবাল টি এবং কলা-দুধের স্মুদি সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। পানিশূন্যতা ও পুষ্টির অভাবের কারণে সাধারণত শরীর ক্লান্ত লাগে, যা এ পানীয়গুলো দ্রুত পূরণ করে।

ক্লান্তি দূর করতে আমরা সাধারণত চা কিংবা কফি পান করে থাকি। তাতে চটজলদি চাঙা হওয়া যায় বটে। কিন্তু সেই চাঙাভাব বেশিক্ষণ থাকে না। কিছুক্ষণ পরই দেখা যায়, আবার যাচ্ছেতাই অবস্থা! আর ক্লান্তিভাব যদি দীর্ঘক্ষণ থাকে তাহলে সমস্যাটা হতে পারে অন্য। পুষ্টির ঘাটতি। গলদ তাহলে আপনার খাদ্যতালিকায়।

আপনার শরীর পাচ্ছে না প্রয়োজনমাফিক পুষ্টি। দুই ক্ষেত্রেই চা কিংবা কফি উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এতে বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার শরীরে চিনির মাত্রা। তার বদলে খেতে পারেন জুস কিংবা পানীয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ক্লান্তি দূর করতে যা করণীয়—

কলার স্মুদি

ভিটামিনে ভরপুর কলা। কারণ কলা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর। সেই সঙ্গে আছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার, যা নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তচাপ। সকাল সকাল কলা খেলে সেটা আপনার কার্ব ও পুষ্টির জোগান যথাযথ রাখতে সাহায্য করে থাকে। তার সঙ্গে নিতে পারেন টকদই, দুধ, বাদামসহ অন্যান্য ফল কিংবা সবজি। এগুলো আপনার হজমের জন্যও ভালো।

হারবাল চা

এখন সব দোকানেই সব রকম হারবাল চা কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু বাসায় বানানোর সুবিধা হচ্ছে— তাতে কী দেবেন, কী দেবেন না, তার ওপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সহজতম উপায় হলো— গ্রিন টির সঙ্গে এলাচ, আদা ও হলুদ মিশিয়ে নেওয়া। এগুলো অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর। সেই সঙ্গে বিপাক, রক্তসঞ্চালন ও ক্লান্তি দূর করায়ও কার্যকর। তবে অবশ্যই সকালে কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খাবেন।

চিয়া বীজ দিয়ে তরমুজের জুস

তরমুজের জুস নিজেই ভিটামিন সি ও আয়রনে ভরপুর। সেই সঙ্গে এটা আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে সতেজ ও তরতাজা করে রাখে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। অন্যদিকে চিয়া বীজে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সঙ্গে নানা খনিজ উপাদান। আর তাই জুসে এই দুইয়ের মিশ্রণ ঘটালে সহজেই তা আপনার ক্লান্তি দূর করবে।

ডাবের পানি

গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে ডাবের পানির চেয়ে সুস্বাদু পানি আর কিছু হতে পারে না। এর গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখা থেকে শুরু করে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ— সবকিছুতেই প্রভাব রাখে এটা। খাওয়াও যায় নানাভাবে। মেশানো যায় অনেক কিছু।

এ ছাড়া চিয়া বীজ ডাবের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর খেতে পারেন ধনেপাতা বা পুদিনা পাতার সঙ্গে মিশিয়ে। কিংবা লেবুর জুস ও মধু মিশিয়ে। এগুলো স্বাদের সঙ্গে বাড়িয়ে দেবে পুষ্টিগুণও। এমনকি অন্যান্য ফলের জুসেও খানিকটা ডাবের পানি মিশিয়ে খেতে পারেন।

ডালিমের জুস

ডালিমে আছে ভিটামিন সি, কে এবং ই। সেই সঙ্গে আছে ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও জিঙ্কের মতো খনিজ উপাদান। তাই এ জুস আপনার ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে করে থাকে। সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন খানিকটা লেবুর রস। মনে রাখবেন, ভিটামিন সির সঙ্গে আয়রন গ্রহণের সম্পর্ক আছে, যার অভাবে ক্লান্তি, অবসাদ এমনকি রক্তস্বল্পতা পর্যন্ত হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ক্লান্তি দূর করে যেসব পানীয়

Update Time : ০১:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

শরীরকে দ্রুত চাঙা ও ক্লান্তি দূর করতে ডাবের পানি, লেবু-মধুর পানি, ডালিমের জুস, গ্রিন কিংবা হারবাল টি এবং কলা-দুধের স্মুদি সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। পানিশূন্যতা ও পুষ্টির অভাবের কারণে সাধারণত শরীর ক্লান্ত লাগে, যা এ পানীয়গুলো দ্রুত পূরণ করে।

ক্লান্তি দূর করতে আমরা সাধারণত চা কিংবা কফি পান করে থাকি। তাতে চটজলদি চাঙা হওয়া যায় বটে। কিন্তু সেই চাঙাভাব বেশিক্ষণ থাকে না। কিছুক্ষণ পরই দেখা যায়, আবার যাচ্ছেতাই অবস্থা! আর ক্লান্তিভাব যদি দীর্ঘক্ষণ থাকে তাহলে সমস্যাটা হতে পারে অন্য। পুষ্টির ঘাটতি। গলদ তাহলে আপনার খাদ্যতালিকায়।

আপনার শরীর পাচ্ছে না প্রয়োজনমাফিক পুষ্টি। দুই ক্ষেত্রেই চা কিংবা কফি উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এতে বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার শরীরে চিনির মাত্রা। তার বদলে খেতে পারেন জুস কিংবা পানীয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ক্লান্তি দূর করতে যা করণীয়—

কলার স্মুদি

ভিটামিনে ভরপুর কলা। কারণ কলা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর। সেই সঙ্গে আছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার, যা নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তচাপ। সকাল সকাল কলা খেলে সেটা আপনার কার্ব ও পুষ্টির জোগান যথাযথ রাখতে সাহায্য করে থাকে। তার সঙ্গে নিতে পারেন টকদই, দুধ, বাদামসহ অন্যান্য ফল কিংবা সবজি। এগুলো আপনার হজমের জন্যও ভালো।

হারবাল চা

এখন সব দোকানেই সব রকম হারবাল চা কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু বাসায় বানানোর সুবিধা হচ্ছে— তাতে কী দেবেন, কী দেবেন না, তার ওপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সহজতম উপায় হলো— গ্রিন টির সঙ্গে এলাচ, আদা ও হলুদ মিশিয়ে নেওয়া। এগুলো অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর। সেই সঙ্গে বিপাক, রক্তসঞ্চালন ও ক্লান্তি দূর করায়ও কার্যকর। তবে অবশ্যই সকালে কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খাবেন।

চিয়া বীজ দিয়ে তরমুজের জুস

তরমুজের জুস নিজেই ভিটামিন সি ও আয়রনে ভরপুর। সেই সঙ্গে এটা আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে সতেজ ও তরতাজা করে রাখে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। অন্যদিকে চিয়া বীজে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সঙ্গে নানা খনিজ উপাদান। আর তাই জুসে এই দুইয়ের মিশ্রণ ঘটালে সহজেই তা আপনার ক্লান্তি দূর করবে।

ডাবের পানি

গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে ডাবের পানির চেয়ে সুস্বাদু পানি আর কিছু হতে পারে না। এর গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখা থেকে শুরু করে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ— সবকিছুতেই প্রভাব রাখে এটা। খাওয়াও যায় নানাভাবে। মেশানো যায় অনেক কিছু।

এ ছাড়া চিয়া বীজ ডাবের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর খেতে পারেন ধনেপাতা বা পুদিনা পাতার সঙ্গে মিশিয়ে। কিংবা লেবুর জুস ও মধু মিশিয়ে। এগুলো স্বাদের সঙ্গে বাড়িয়ে দেবে পুষ্টিগুণও। এমনকি অন্যান্য ফলের জুসেও খানিকটা ডাবের পানি মিশিয়ে খেতে পারেন।

ডালিমের জুস

ডালিমে আছে ভিটামিন সি, কে এবং ই। সেই সঙ্গে আছে ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও জিঙ্কের মতো খনিজ উপাদান। তাই এ জুস আপনার ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে করে থাকে। সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন খানিকটা লেবুর রস। মনে রাখবেন, ভিটামিন সির সঙ্গে আয়রন গ্রহণের সম্পর্ক আছে, যার অভাবে ক্লান্তি, অবসাদ এমনকি রক্তস্বল্পতা পর্যন্ত হতে পারে।