১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে শিগগিরই গতি বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে নজিরবিহীন গতি সঞ্চার করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন অংশীজন ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বন্দরের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধান করা গেলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যার সরাসরি সুফল পাবে দেশের সাধারণ ভোক্তা সমাজ।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের সমস্যাগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বন্দরের অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন এমন বিষয়গুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দ্রুততম সময়ে খালাস করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে বাজারে কোনো পণ্যেরই বাড়তি দাম থাকার যৌক্তিকতা নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সহজীকরণের পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার নিয়েও এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে শেয়ার বাজারের ওপর সাধারণ মানুষ যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেয়ার বাজার এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার আপস করবে না। তিনি জানান, পুঁজিবাজারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই খাতে এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
অর্থমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেয়ার বাজারে এই শৃঙ্খলা ফিরে আসলে কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বড় ধরনের পুঁজির জোগান দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন কলকারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা এই সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন। মেহদীবাগের এই বৈঠকে বন্দর ও কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা অর্থমন্ত্রীর এই ত্বরিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে শিগগিরই গতি বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

Update Time : ০৩:৪৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে নজিরবিহীন গতি সঞ্চার করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন অংশীজন ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বন্দরের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধান করা গেলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যার সরাসরি সুফল পাবে দেশের সাধারণ ভোক্তা সমাজ।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের সমস্যাগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বন্দরের অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন এমন বিষয়গুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দ্রুততম সময়ে খালাস করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে বাজারে কোনো পণ্যেরই বাড়তি দাম থাকার যৌক্তিকতা নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সহজীকরণের পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার নিয়েও এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে শেয়ার বাজারের ওপর সাধারণ মানুষ যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেয়ার বাজার এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার আপস করবে না। তিনি জানান, পুঁজিবাজারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই খাতে এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
অর্থমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেয়ার বাজারে এই শৃঙ্খলা ফিরে আসলে কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বড় ধরনের পুঁজির জোগান দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন কলকারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা এই সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন। মেহদীবাগের এই বৈঠকে বন্দর ও কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা অর্থমন্ত্রীর এই ত্বরিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।