০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা নগরী, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

টানা বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি।

সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকা। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা।

এদিন সকাল ১০টায় সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও রোগীদের শয্যার নিচেও পানি উঠেছে।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, বাহির থেকে বেশি পানি হাসপাতাল চত্বরে ডুকছে। বিকল্প উপায়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চালু আছে। আর বৃষ্টি নাহলে পানি কমে যাবে।

নগরীর মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগান বাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইন্স, রেসকোর্স, উত্তর রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নগরীর সদর হাসপাতাল সড়কের ওষুধ ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে আজই প্রথম দোকানের ভেতর পানি ডুকেছে।

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, বাসার নিচতলায় পানি ডুকেছে। ড্রেন ও নালা দিয়ে পানি কম বের হচ্ছে।

মহিলা কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিপি আক্তার বলেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।

এ সময় অধিকাংশ পরীক্ষার্থীকে ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। অনেককে ডুবন্ত সড়কে পানিতে পড়ে যেতে দেখা গেছে। বর্ষায় পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদেরও ক্ষোভ প্রকাশ করতেও শোনা যায়।

এদিকে জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতর শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা হয়।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। দিনভর আরও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার বলেন, এ কেন্দ্রে ৮টি কলেজের ২১শ পরীক্ষার্থী আছে। মাঠে পানি থাকলেও রুমের ভেতর পানি নেই। যে সব পরীক্ষার্থী একটু বিলম্বে কেন্দ্রে এসেছে তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে বোর্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ৬ জেলায় ভারি বর্ষণে কেন্দ্রের সামনে ও রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও কক্ষের ভেতর কোথাও পানি ডুকেনি। পরীক্ষার্থীদের যারা পানির কারণে কিছুটা বিলম্বে কেন্দ্রে গিয়েছে তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সকালে পরীক্ষা শুরুর আগেই আমি বিভিন্ন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি। অল্প সময়ের মধ্যেই নগর থেকে পানি সরে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শনিবার শুরু হচ্ছে ২ দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিট

টানা বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা নগরী, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

Update Time : ০২:০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

টানা বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি।

সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকা। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা।

এদিন সকাল ১০টায় সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও রোগীদের শয্যার নিচেও পানি উঠেছে।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, বাহির থেকে বেশি পানি হাসপাতাল চত্বরে ডুকছে। বিকল্প উপায়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চালু আছে। আর বৃষ্টি নাহলে পানি কমে যাবে।

নগরীর মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগান বাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইন্স, রেসকোর্স, উত্তর রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নগরীর সদর হাসপাতাল সড়কের ওষুধ ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে আজই প্রথম দোকানের ভেতর পানি ডুকেছে।

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, বাসার নিচতলায় পানি ডুকেছে। ড্রেন ও নালা দিয়ে পানি কম বের হচ্ছে।

মহিলা কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিপি আক্তার বলেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।

এ সময় অধিকাংশ পরীক্ষার্থীকে ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। অনেককে ডুবন্ত সড়কে পানিতে পড়ে যেতে দেখা গেছে। বর্ষায় পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদেরও ক্ষোভ প্রকাশ করতেও শোনা যায়।

এদিকে জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতর শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা হয়।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। দিনভর আরও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার বলেন, এ কেন্দ্রে ৮টি কলেজের ২১শ পরীক্ষার্থী আছে। মাঠে পানি থাকলেও রুমের ভেতর পানি নেই। যে সব পরীক্ষার্থী একটু বিলম্বে কেন্দ্রে এসেছে তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে বোর্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ৬ জেলায় ভারি বর্ষণে কেন্দ্রের সামনে ও রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও কক্ষের ভেতর কোথাও পানি ডুকেনি। পরীক্ষার্থীদের যারা পানির কারণে কিছুটা বিলম্বে কেন্দ্রে গিয়েছে তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সকালে পরীক্ষা শুরুর আগেই আমি বিভিন্ন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি। অল্প সময়ের মধ্যেই নগর থেকে পানি সরে যাবে।