০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা পরিস্থিতিতে চলমান পরীক্ষাগুলো সাময়িক স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যা, অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সোমবার (১২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানবিক বিবেচনায় এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত সংকটের মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বন্যায় ইতোমধ্যে দেশের সাত জেলায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে। উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছাত্রদলের ভাষ্য, বন্যাকবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থী সংকটে থাকলেও পরীক্ষা চালিয়ে গেলে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার উন্নতি, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরীক্ষার উপযোগী হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা উচিত।

ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়ে সংবেদনশীল থাকবে বলে তারা আশা করেন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গত মানুষের প্রয়োজনে সব রকম সহায়তা দিচ্ছে সরকার : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বন্যা পরিস্থিতিতে চলমান পরীক্ষাগুলো সাময়িক স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

Update Time : ০৭:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যা, অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সোমবার (১২ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানবিক বিবেচনায় এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত সংকটের মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বন্যায় ইতোমধ্যে দেশের সাত জেলায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে। উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছাত্রদলের ভাষ্য, বন্যাকবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থী সংকটে থাকলেও পরীক্ষা চালিয়ে গেলে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার উন্নতি, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরীক্ষার উপযোগী হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা উচিত।

ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়ে সংবেদনশীল থাকবে বলে তারা আশা করেন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।