স্পোর্টস ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় দিনেই দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আজ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শুরু করবে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে। একই দিনে মাঠে নামবে কাতার, সুইজারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, হাইতি, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কও। তবে সব আলো কেড়ে নিয়েছে ব্রাজিল–মরক্কো ম্যাচ।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শুধু দুই দলের বিশ্বকাপ শুরুর লড়াই নয়, বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের শক্তির জানান দেওয়া ও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কো ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল। অন্যদিকে ব্রাজিল দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা ঘোচাতে মরিয়া।
পরিসংখ্যান অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। তথ্য-পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা ২৫ হাজার সিমুলেশন চালিয়ে দেখেছে, ম্যাচটিতে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ড্রয়ের সম্ভাবনা ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
দুই দলের অতীত রেকর্ডও বেশ আকর্ষণীয়। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। ১৯৯৮ সালের আসরে সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। তবে সর্বশেষ সাক্ষাতে হাসি ছিল মরক্কোর মুখে। ২০২৩ সালের প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে তারা প্রমাণ করেছিল যে বর্তমান মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ডও ভালো। বিশ্বকাপে আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। একমাত্র হারটি এসেছিল ২০২২ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে। ফলে পরিসংখ্যানের বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও মরক্কোকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তবে দিনের শেষে সব আলোই থাকবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায় থাকা ব্রাজিল কি শক্তিশালী মরক্কোকে হারিয়ে শুভসূচনা করবে, নাকি আফ্রিকার জায়ান্টরা আবারও কোনো পরাশক্তিকে চমকে দেবে—সেই উত্তর মিলবে আজ রাতেই।
গ্রুপ ‘সি’-এর হিসাবেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। একই গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড ও হাইতি। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া দল গ্রুপসেরা হওয়ার দৌড়ে বড় সুবিধা পাবে। ফলে দুই দলের কাছেই এটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং নকআউট পর্বে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ।
ব্রাজিলের শক্তির জায়গা তাদের আক্রমণভাগ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, রদ্রিগো, এন্দ্রিক কিংবা ব্রুনো গিমারায়েসদের মতো তারকাদের নিয়ে আক্রমণে ভয়ংকর তারা। অন্যদিকে মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। কাতার বিশ্বকাপে মাত্র একটি ওপেন-প্লে গোল হজম করেই সেমিফাইনালে উঠেছিল দলটি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে ব্রাজিল–মরক্কোর। পরিসংখ্যান ও ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক বাস্তবতা বলছে, মরক্কোকে হারাতে সেলেসাওদের নিজেদের সেরাটা খেলতেই হবে। কারণ আধুনিক ফুটবলে মরক্কো এখন আর চমক নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত এক শক্তি।
Reporter Name 























