০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গত ২৫ বছরে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, এএফসিপির আওতায় গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এএফসিপির অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের ইসলামিক স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার, লালবাগ কেল্লার একাংশ সংরক্ষণ, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের আধুনিকীকরণ এবং বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প ও প্রাচীন ধাতব ঢালাইয়ের মতো বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও দলিলকরণেও এ তহবিল সহায়তা দিচ্ছে।

বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম সিটির সমন্বিত উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি যৌথভাবে ‘ইউএস–বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পী বিনিময় কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হবে।

বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং আসন্ন ‘নজরুল বর্ষ’-এর অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানান। নজরুল সাহিত্য অনুবাদ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হলে রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী।

বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট ফারোহা সোহরাওয়ার্দী, পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার স্কট ই. হার্টম্যান, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর তরিকুল ইসলাম নাহিন, প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট এম. বি. এম. সাদ বিন এলাহী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন। এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গত মানুষের প্রয়োজনে সব রকম সহায়তা দিচ্ছে সরকার : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০২:৫২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গত ২৫ বছরে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, এএফসিপির আওতায় গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এএফসিপির অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের ইসলামিক স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার, লালবাগ কেল্লার একাংশ সংরক্ষণ, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের আধুনিকীকরণ এবং বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প ও প্রাচীন ধাতব ঢালাইয়ের মতো বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও দলিলকরণেও এ তহবিল সহায়তা দিচ্ছে।

বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম সিটির সমন্বিত উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি যৌথভাবে ‘ইউএস–বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পী বিনিময় কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হবে।

বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং আসন্ন ‘নজরুল বর্ষ’-এর অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানান। নজরুল সাহিত্য অনুবাদ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হলে রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী।

বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট ফারোহা সোহরাওয়ার্দী, পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার স্কট ই. হার্টম্যান, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর তরিকুল ইসলাম নাহিন, প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট এম. বি. এম. সাদ বিন এলাহী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন। এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।