সবুজদিন রিপোর্ট।।
খুলনার হরিণটানা থানা এলাকার একটি বাড়ির উঠান থেকে মাটি খুঁড়ে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মুরাদ মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী ফালগুনী খাতুনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নগরের রেলব্রিজ আবাসিক এলাকার ওই বাড়ির উঠান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি প্রায় তিন মাস আগে নিখোঁজ হওয়া এক ইজিবাইকচালকের মরদেহ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন জানিয়েছেন, ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভাড়ার কথা বলে চালককে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা হয়। হত্যার পর ইজিবাইকটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে মুরাদ ও ফালগুনীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঝগড়ার সময় তাঁরা একে অপরকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষারোপ করতেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছিল।
সোমবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া হলে মুরাদ মোল্লা তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। এরপর ফালগুনী খাতুন থানায় গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং ইজিবাইকচালক হত্যার বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে আটক করে। পরে তাঁদের দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। হাড়গোড় ও মাথার অংশ পাওয়া গেলেও একটি পা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি পঙ্গু ছিলেন। গত রমজান মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক ইজিবাইকচালকের মরদেহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, বাড়িটি তল্লাশি করে সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত একটি ইজিবাইকের নম্বরপ্লেট (১৬৭২) উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরটি গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর আগে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Reporter Name 





















