১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় সৌর বিদ্যুৎ এর ডিস্যালাইনেশন প্লান্ট সুপেয় পানি সরবরাহে সাড়া ফেলেছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৯ Time View

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা)

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের লবণাক্ত বারুইডাঙ্গা গ্রামে সৌর বিদ্যুৎ চালিত ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসিস স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূরীকরণে এক অভূতপূর্ব সাড়া জেগেছে। এটি পরিচালনা করতে প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের কোনো প্রয়োজন হয় না। সম্পূর্ণ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাটির গভীর থেকে পানি উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের লবনাক্ত বারুইডাঙ্গা গ্রামে বঞ্চিত মানুষের তীব্র খাবার পানির সংকট নিরসনে ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসিস স্থাপন করা হয়েছে। উপকূলীয় এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিত মানুষের খাবার পানির অভাব দূর করতে এই আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রত্যান্ত গ্রামের এ প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন প্রায় একহাজার লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের লবনাক্ত বারুইডাঙ্গা গ্রামের বদরুল আলমের বাড়ীর পাশে রাস্তার ধারে ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসি স্থাপন করা হয়েছে। এনজিও পরিচালিত প্রকল্পটির মেয়াদ ১০ বছর। প্রকল্পের নাম ইনক্রিজিং এ্যাক্সেস টুইমপ্রুভড ওয়াশ সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসিস। বাস্তবায়নেঃ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র- ডরপ, সহযোগিতায়- হেলভেটাস বাংলাদেশ, অর্থায়নে- চ্যারিটিওয়াটার। ছাদের উপর ৩৪০ ওয়ার্টের সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে মাটির গভির থেকে পানি উৎত্তোলন করে পানি প্রক্রিয়াজাত করে উপরে ট্যাঙ্কিতে রাখা হয়। প্রতি ঘণ্টায় পানি পরিশোধন ক্ষমতা এক হাজার লিটার। প্রকল্পের উপকারভোগী দুইশত পরিবার রয়েছে। পানি লিটার প্রতি ৪০ পয়সা দরে বিক্রি করা হয়। প্রকল্পটির সাত জন উদ্দোক্তাগনের মধ্যে মো: বদরুল আলম মূল দায়িত্ব পালন করেন।

এই প্লান্ট স্থাপন এবং এটি পরিচালনা করতে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যাবহার না করে সোলার প্যানেল ব্যাবহার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ এর কোন প্রয়োজন নেই। সব সময় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে মাটির গভির থেকে পানি উৎত্তোলন করে পানি প্রক্রিয়াজাত করে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট হলো এমন একটি শিল্প-কারখানা বা ব্যবস্থা যা সমুদ্রের বা ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও খনিজ পদার্থ অপসারণ করে সুপেয় পানি উৎপাদন করে। রিভার্স অসমোসিস বা পাতন দ্ধতির মাধ্যমে লবণাক্ত পানি থেকে লবণের অণু আলাদা করা হয়, যার ফলে পানি পানযোগ্য হয়ে ওঠে। এটি মূলত বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসনে ব্যবহার করা হয়। উপকূলীয় এলাকায় যেখানে মিষ্টি পানির অভাব রয়েছে, সেখানে এই প্ল্যান্ট জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে।

উপকূলে বিভিন্ন সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এই এলাকার নদী, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত লবনাক্তসহ উচ্চ খনিজের কারণে পানের অযোগ্য। লবণাক্ত পানির কারণে উপকূল এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যা লেগেই আছে বিশেষ করে নারীরা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির আছেন ।

উপকূলীয় এলাকায় লবন পানির কারণে নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রমতে- লবনাক্ত পানির প্রভাবে উপকূলের গর্ভবতী মাদের এক্লামশিয়া-খিঁচুনি, প্রি এক্লামশিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ঘোরানো, অঙ্গ হানীসহ মাতৃ মৃত্যু সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে গর্ভের ভ্রুন ও শিশুর স্বাস্থ্য মারাত্নক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমনকি মাতৃগর্ভেই মৃত্যু হচ্ছে।

উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলগুলোতে মিষ্টি বা সুপেয় পানির তীব্র অভাব থাকে। এই ধরনের পরিবেশবান্ধব এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী উদ্যোগ একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায়, অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও তিস্তা প্রকল্পে ঢাকাকে সমর্থন চীনের

পাইকগাছায় সৌর বিদ্যুৎ এর ডিস্যালাইনেশন প্লান্ট সুপেয় পানি সরবরাহে সাড়া ফেলেছে

Update Time : ০২:৩১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা)

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের লবণাক্ত বারুইডাঙ্গা গ্রামে সৌর বিদ্যুৎ চালিত ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসিস স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূরীকরণে এক অভূতপূর্ব সাড়া জেগেছে। এটি পরিচালনা করতে প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের কোনো প্রয়োজন হয় না। সম্পূর্ণ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাটির গভীর থেকে পানি উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের লবনাক্ত বারুইডাঙ্গা গ্রামে বঞ্চিত মানুষের তীব্র খাবার পানির সংকট নিরসনে ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসিস স্থাপন করা হয়েছে। উপকূলীয় এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিত মানুষের খাবার পানির অভাব দূর করতে এই আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রত্যান্ত গ্রামের এ প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন প্রায় একহাজার লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের লবনাক্ত বারুইডাঙ্গা গ্রামের বদরুল আলমের বাড়ীর পাশে রাস্তার ধারে ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসি স্থাপন করা হয়েছে। এনজিও পরিচালিত প্রকল্পটির মেয়াদ ১০ বছর। প্রকল্পের নাম ইনক্রিজিং এ্যাক্সেস টুইমপ্রুভড ওয়াশ সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট -রিভার্স অসমোসিস। বাস্তবায়নেঃ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র- ডরপ, সহযোগিতায়- হেলভেটাস বাংলাদেশ, অর্থায়নে- চ্যারিটিওয়াটার। ছাদের উপর ৩৪০ ওয়ার্টের সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে মাটির গভির থেকে পানি উৎত্তোলন করে পানি প্রক্রিয়াজাত করে উপরে ট্যাঙ্কিতে রাখা হয়। প্রতি ঘণ্টায় পানি পরিশোধন ক্ষমতা এক হাজার লিটার। প্রকল্পের উপকারভোগী দুইশত পরিবার রয়েছে। পানি লিটার প্রতি ৪০ পয়সা দরে বিক্রি করা হয়। প্রকল্পটির সাত জন উদ্দোক্তাগনের মধ্যে মো: বদরুল আলম মূল দায়িত্ব পালন করেন।

এই প্লান্ট স্থাপন এবং এটি পরিচালনা করতে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যাবহার না করে সোলার প্যানেল ব্যাবহার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ এর কোন প্রয়োজন নেই। সব সময় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে মাটির গভির থেকে পানি উৎত্তোলন করে পানি প্রক্রিয়াজাত করে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট হলো এমন একটি শিল্প-কারখানা বা ব্যবস্থা যা সমুদ্রের বা ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও খনিজ পদার্থ অপসারণ করে সুপেয় পানি উৎপাদন করে। রিভার্স অসমোসিস বা পাতন দ্ধতির মাধ্যমে লবণাক্ত পানি থেকে লবণের অণু আলাদা করা হয়, যার ফলে পানি পানযোগ্য হয়ে ওঠে। এটি মূলত বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসনে ব্যবহার করা হয়। উপকূলীয় এলাকায় যেখানে মিষ্টি পানির অভাব রয়েছে, সেখানে এই প্ল্যান্ট জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে।

উপকূলে বিভিন্ন সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এই এলাকার নদী, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত লবনাক্তসহ উচ্চ খনিজের কারণে পানের অযোগ্য। লবণাক্ত পানির কারণে উপকূল এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যা লেগেই আছে বিশেষ করে নারীরা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির আছেন ।

উপকূলীয় এলাকায় লবন পানির কারণে নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রমতে- লবনাক্ত পানির প্রভাবে উপকূলের গর্ভবতী মাদের এক্লামশিয়া-খিঁচুনি, প্রি এক্লামশিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ঘোরানো, অঙ্গ হানীসহ মাতৃ মৃত্যু সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে গর্ভের ভ্রুন ও শিশুর স্বাস্থ্য মারাত্নক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমনকি মাতৃগর্ভেই মৃত্যু হচ্ছে।

উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলগুলোতে মিষ্টি বা সুপেয় পানির তীব্র অভাব থাকে। এই ধরনের পরিবেশবান্ধব এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী উদ্যোগ একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায়, অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।